
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০২৬ আসরে গত রবিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রচিত হলো এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্য। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাবা ও ছেলেকে একই একাদশে খেলতে দেখার বিরল সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জার্সিতে আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী এবং তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে হাসান ইশাখিল শুধু মাঠেই নামেননি, বরং ব্যাট হাতে একসঙ্গে জুটি গড়ে ক্রিকেট ভক্তদের উপহার দিয়েছেন এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। বাবার অভিজ্ঞ আর ছেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের এই সংমিশ্রণ এবারের বিপিএলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই সবার নজর ছিল অভিষিক্ত তরুণ হাসান ইশাখিলের দিকে। ওপেনিংয়ে নেমে তিনি যেভাবে ঢাকা ক্যাপিটালসের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন, তাতে মনেই হয়নি এটি তার প্রথম বিপিএল ম্যাচ। ৫টি ছক্কা ও ৭টি চারের সাহায্যে মাত্র ৫০ বলে ৯২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে আউট হলেও হাসান ইশাখিল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগময় মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে বাবা মোহাম্মদ নবী ক্রিজে এসে ছেলের সঙ্গে যোগ দেন।
বাবা-ছেলের এই জুটি দ্বিতীয় উইকেটে (মতান্তরে চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে) দলের জন্য অমূল্য ৫৩ রান যোগ করেন। একদিকে মোহাম্মদ নবী যেমন ধীরস্থিরভাবে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, অন্যদিকে ছেলে হাসান ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। ক্রিকেটের সবুজ গালিচায় পারিবারিক এই মেলবন্ধন গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের যেমন উদ্বেলিত করেছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশংসার জোয়ার বইছে। এই জুটির দৃঢ়তায় ভর করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ঢাকা ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ১৮৪ রানের একটি বিশাল চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জয়ের পথ প্রশস্ত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহাম্মদ নবীর মতো একজন কিংবদন্তির সঙ্গে তার উত্তরসূরি হাসান ইশাখিলের এমন পারফরম্যান্স বিপিএলের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। নবীর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা আর ইশাখিলের তারুণ্যের উদ্দীপনা নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করেছে। ইতিহাসের এই পাতায় নাম লেখানোর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে, রক্তে যখন ক্রিকেট থাকে, তখন মাঠের লড়াইয়েও পারিবারিক বন্ধন সাফল্যের অনন্য শিখরে পৌঁছাতে পারে। বিপিএলের এই আসরটি তাই কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নবী পরিবারের সাফল্যের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবেও স্মরিত হবে।