
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সুপার এইট পর্বের শুরুতেই বাগড়া দিয়েছে বেরসিক বৃষ্টি। শ্রীলঙ্কার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির দাপটে এখন পর্যন্ত একটি বলও মাঠে গড়ানো সম্ভব হয়নি। টস ভাগ্য পাকিস্তানের পক্ষে গেলেও বৃষ্টির কারণে মাঠের লড়াই এখনো অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা পড়ে আছে। মাঠজুড়ে বিশাল সব কাভার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, আর গ্যালারিতে অপেক্ষমাণ হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী এখন কেবল আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতির শান্ত হওয়ার প্রার্থনা করছেন।
ম্যাচের শুরুতে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু টসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে না হতেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে দুই দলের খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। কলম্বোর আবহাওয়া দপ্তর আগে থেকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল, ফলে দুই দলের রণকৌশলে বৃষ্টির প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল আগে থেকেই। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার শঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত পাঁচ ওভারের একটি সংক্ষিপ্ত ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ থাকলেও আম্পায়াররা খেলা শুরু করার চেষ্টা করবেন। সেই লক্ষ্য পূরণে ম্যাচ অফিশিয়ালরা স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। যদি এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি না থামে এবং আউটফিল্ড খেলার উপযোগী না করা যায়, তবে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন আম্পায়াররা। ২০ দলের এই জমজমাট বিশ্বকাপ এখন আট দলের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্ট সেমিফাইনালের পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের সুপার এইটে গ্রুপ টু-কে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা ‘গ্রুপ অব ডেথ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। এই গ্রুপে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি রয়েছে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কা ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। অন্যদিকে গ্রুপ ওয়ান-এ লড়ছে ভারত, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যদি বৃষ্টির কারণে আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি পণ্ড হয়ে যায়, তবে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড উভয় দলই ১টি করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেবে। এতে গ্রুপের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, কলম্বোর আকাশ কি শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ করবে, নাকি নাটকীয়ভাবে রোমাঞ্চকর কোনো লড়াই দেখার সুযোগ করে দেবে।