
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বীপজেলা ভোলার রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে অবশেষে চূড়ান্ত হলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। জোটগত রাজনীতির কৌশলগত সিদ্ধান্তে এ আসন থেকে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। সোমবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নাটকীয় এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভোলার নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমানের কাছে গোলাম নবী আলমগীর তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন জমা দেন। বিকেল ৫টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্দোলনের দীর্ঘদিনের শরিক ব্যারিস্টার পার্থের জন্য বিএনপি এই আত্মত্যাগ করার মাধ্যমে জোটের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে। মূলত ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন আন্দালিব রহমান পার্থ। এবারও তাকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়ে এসে ভোলা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠ অনেকটা সংকুচিত হয়ে এসেছে। শুরুতে ৯ জন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে এখন ভোটের লড়াইয়ে টিকে আছেন ৬ জন প্রার্থী। এর আগে ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর হোসাইন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রফিজুল হোসেনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। গোলাম নবী আলমগীরের সরে দাঁড়ানোর ফলে ব্যারিস্টার পার্থের সামনে এখন আর দলের অভ্যন্তরের কোনো শক্ত চ্যালেঞ্জ রইল না।
বর্তমানে এই আসনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওবায়দুর রহমান। এছাড়াও নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে থাকতে লড়ছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আইনুর রহমান জুয়েল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আশরাফ আলী। তবে বিএনপির সমর্থনপুষ্ট হওয়ায় আন্দালিব রহমান পার্থকে নিয়েই ভোটারদের মধ্যে মূল কৌতূহল আবর্তিত হচ্ছে।
ভোলার স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই আসনে গোলাম নবী আলমগীরের মনোনয়ন প্রত্যাহার জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় সবাই এখন একাট্টা। আন্দালিব রহমান পার্থের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপি ও বিজেপির কর্মীরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই জোটবদ্ধ শক্তি শেষ পর্যন্ত ভোলা-১ আসনের মানুষের মন জয় করতে পারে কি না।