
সৌদি আরবের বর্তমান শাসক এবং আধুনিক আরবের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৯০ বছর বয়সী এই প্রবীণ শাসককে রাজধানী রিয়াদের কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সৌদি রয়্যাল কোর্ট থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি মূলত বাদশাহর স্বাস্থ্যের নিয়মিত তদারকির একটি অংশ। তবে হাসপাতালের ভর্তি হওয়ার কারণ রুটিন চেকআপ বলা হলেও তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে বাদশাহর সুস্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহলে এক ধরণের কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তির মাত্র কয়েকদিন আগে গত মঙ্গলবারও বাদশাহ সালমান মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন। সেই সময় তাঁকে স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম দেখা গেলেও আকস্মিক এই হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নজর কেড়েছে সবার। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালেও তিনি ফুসফুসে প্রদাহজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। রাজপরিবার থেকে কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও ধারণা করা হচ্ছে, বয়সজনিত কারণে তাঁর শরীরের ওপর বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের সপ্তম শাসক হিসেবে ২০১৫ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন বাদশাহ সালমান। তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের প্রয়াণের পর তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে সিংহাসনে বসার বহু আগে থেকেই তিনি সৌদি আরবের রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতি নির্ধারণে একজন দূরদর্শী উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। ১৯৩৫ সালে রিয়াদে জন্মগ্রহণকারী এই শাসক শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও ধর্মপ্রাণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘প্রিন্সেস স্কুল’ থেকে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় দীক্ষিত হন এবং খুব অল্প বয়সেই পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বাদশাহ সালমানের সফলতার ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৫৪ সালে তিনি রিয়াদের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে জনসেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে পূর্ণাঙ্গ গভর্নরের দায়িত্ব পেয়ে কয়েক দশক ধরে রিয়াদ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকায়নে নেতৃত্ব দেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা তাঁকে সৌদি রাজপরিবারের অন্যতম স্তম্ভে পরিণত করেছে। বর্তমানে তাঁর হাসপাতালে ভর্তির খবরে সৌদি আরবের জনগণসহ মুসলিম উম্মাহর মধ্যে দোয়ার আবেদন ছড়িয়ে পড়েছে এবং সবাই তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।