
বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার অবতারণা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নিজ ঘর থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী নামক এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার পাশেই পড়েছিল তার নয় মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিম হোসেনের নিথর দেহ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চরম মানসিক হতাশায় নিজের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ওই নারী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
নিহত স্বর্ণালী নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্র ও নিহতের ভাই শুভ হালদারের ভাষ্যমতে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্বর্ণালীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বামীর কারাবাস এবং দফায় দফায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় স্বর্ণালী দীর্ঘকাল ধরে চরম মানসিক টানাপোড়েন ও বিষণ্নতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি ক্রমেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই মানসিক বিপর্যয় থেকেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কি না বা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা ময়নাতদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। একই সাথে একটি পরিবারে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।