
পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে মালয়েশিয়া তাদের সংশোধিত ময়লা ফেলা-বিরোধী আইন কার্যকর করার পর প্রথমবারের মতো আইনি মারপ্যাঁচে পড়েছেন দুই বিদেশি নাগরিক। জোহর বাহরু শহরের কেন্দ্রস্থলে গত ১ জানুয়ারি জনসমক্ষে ময়লা ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত এই দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন বাংলাদেশি যুবক এবং অপরজন ইন্দোনেশীয় নারী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে পরিবেশ রক্ষায় কঠোর আইন প্রবর্তনের পর এটিই বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রথম মামলা, যা প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম সুলতান এমডি (২৮) এবং ইন্দোনেশীয় নারীর নাম আনিতা লুকমান (৪৯)।
গত ২৩ জানুয়ারি অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হলে আইনি প্রক্রিয়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ইন্দোনেশীয় নাগরিক আনিতা লুকমান আদালতের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তাকে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং সেই সাথে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ছয় ঘণ্টার সামাজিক সেবা বা কমিউনিটি সার্ভিস সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অন্যদিকে, বাংলাদেশি নাগরিক সুলতান এমডি আদালতের অভিযোগনামাটি সঠিকভাবে বুঝতে না পারার দাবি জানিয়ে একজন দোভাষী নিয়োগের আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলার কার্যক্রম আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছে।
মালয়েশিয়ার সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড পাবলিক ক্লিনজিং ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন (এসডব্লিউ কর্প) জানিয়েছে, বছরের প্রথম দিন থেকে কার্যকর হওয়া এই অভিযানের আওতায় সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৪১৮টি নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৩ জনই বিদেশি নাগরিক, যা উদ্বেগজনক। এসডব্লিউ কর্প-এর প্রধান নির্বাহী খালিদ মোহামেদ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ১০৩ জন বিদেশির মধ্যে ৯৯ জনের বিরুদ্ধেই মামলা দায়েরের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি হাই-প্রোফাইল মামলা খুব দ্রুতই বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হবে। মূলত জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও শহরগুলোকে পর্যটনবান্ধব রাখতেই মালয় সরকার আইন সংশোধন করে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।