
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বেতাহা এলাকায় মৎস্য ঘেরের মাছ চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে এলাকার চিহ্নিত ও কুখ্যাত চোর আসাদুল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ঘের মালিকদের অতিষ্ঠ করে তোলা এই চোরকে সোমবার ভোররাতে মাছ চুরিরত অবস্থায় স্থানীয় জনতা হাতে-নাতে আটক করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী ঘের মালিকদের মাঝে এক ধরণের স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতাহা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মৎস্য ঘেরগুলোতে গত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পিতভাবে মাছ চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ঘেরের দামী সাদা মাছ ও গলদা চিংড়ি লুট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন সাধারণ চাষিরা। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা চোর ধরতে সতর্ক পাহারা বসায়। সোমবার গভীর রাতে আসাদুল তার দলবল নিয়ে বেতাহার একটি বড় ঘেরে জাল ফেলে মাছ ধরা শুরু করলে বিষয়টি পাহারাদারদের নজরে আসে। এসময় পাহারাদারদের সংকেতে গ্রামবাসী চারপাশ থেকে ঘিরে ফেললে সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আসাদুলকে ঘেরের পাড়েই ধরে ফেলে জনতা।
আটককৃত আসাদুল ওই এলাকার একজন পেশাদার অপরাধী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার চুরির অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু প্রতিবারই প্রমাণের অভাবে সে পার পেয়ে যেত। উত্তেজিত জনতা আসাদুলকে আটকের পর উত্তম-মাধ্যম দেয় এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের বিষয়টি অবগত করে। পরে তাকে স্থানীয় প্রশাসনের হেফাজতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘের মালিকরা জানান, আসাদুলের মতো পেশাদার চোরদের কারণে অনেক ক্ষুদ্র মৎস্য চাষি আজ নিঃস্ব হওয়ার পথে। তারা এই চক্রের অন্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আসাদুলকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই কুখ্যাত চোর গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সাহসের সঞ্চার হয়েছে এবং চোর চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।