
পূর্ব সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে বন্যপ্রাণী নিধনের এক অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বনবিভাগ। শনিবার দিবাগত শেষ রাতে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য সংলগ্ন বেতমোর নদীতে অভিযান চালিয়ে দুই দুর্ধর্ষ হরিণ শিকারীকে হাতেনাতে আটক করেছেন বনরক্ষীরা। এ সময় শিকারীদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার এবং হরিণ ধরার প্রায় ৫০০ ফুট বিষফাঁদ জব্দ করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার সকিনা গ্রামের আঃ মালেক আকন ও আবদুল কালাম হাওলাদার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার সকালে তাদের বাগেরহাট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বনবিভাগ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে শনিবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল বনরক্ষী বেতমোর নদীতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি ট্রলারের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তারা সেটিকে থামার সংকেত দেন। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা তাদের কাছে থাকা শিকার করা হরিণের মাংস দ্রুত নদীতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে ট্রলারটি তল্লাশি করে দেখা যায়, এর পাটাতন তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়ে আছে, যা প্রমাণ করে যে ট্রলারটি ব্যবহার করে অতি সম্প্রতি হরিণ নিধন করা হয়েছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক শিকারীরা বনের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে ফাঁদ পেতেছিল। ট্রলারের ভেতর থেকে রক্তমাখা চিহ্ন এবং বিপুল পরিমাণ ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে, যা বন অপরাধের অকাট্য প্রমাণ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় এ ধরনের শিকারীচক্রের আনাগোনা বন্ধে এবং বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে বনবিভাগের টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।