
খুলনা মহানগরীর অপরাধ জগতের অন্যতম আতঙ্ক এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. বিসমিল্লাহকে (৩৭) অবশেষে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর টুটপাড়া এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর টুটপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি চৌকস দল এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃত বিসমিল্লাহ পশ্চিম টুটপাড়া এলাকার শেখ আতিয়ারের ছেলে এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ সাম্রাজ্যের এক প্রভাবশালী নাম।
অভিযান চলাকালীন নাটকীয় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে টুটপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাইফুর রহমান জানান যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন বিসমিল্লাহ টুটপাড়ার কবি নজরুল ইসলাম রোড এলাকায় অবস্থান করছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই সে এলাকা ছেড়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে এসআই সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের দলটি পিছু ধাওয়া করে তাকে ঝাপটে ধরতে সক্ষম হয়। বিসমিল্লাহর বিরুদ্ধে খুলনা ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালের একটি মাদক মামলায় আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করলেও সে দীর্ঘ সময় ধরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।
পুলিশি রেকর্ডে খুলনা থানার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় তিন নম্বর অবস্থানে থাকা বিসমিল্লাহর অপরাধের পরিধি কেবল মাদক বা অস্ত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সম্প্রতি লবণচরা থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ‘ট্রিপল হত্যা’ মামলার তদন্তে তার ভয়াবহ সম্পৃক্ততা উঠে এসেছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ফ্রান্সপ্রবাসী আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন, যেখানে বিসমিল্লাহকে ওই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে দীর্ঘ দিন ধরে খুঁজছিল।
বিসমিল্লাহর এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে খুলনার অপরাধ দমনে পুলিশ এক বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে থাকা আগের মামলাগুলোর পাশাপাশি নতুন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, যাবতীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাকে দ্রুতই আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ পুলিশের এই সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করছেন।