
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুরে একটি বেপরোয়া বালুবাহী ট্রাকের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশের উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) আতিকুর রহমান। শুক্রবার দুপুরের এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা অপর এএসআই সোহেল রানা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘাতক ট্রাকসহ চালক ও হেলপারকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে এএসআই আতিকুর রহমান ও সোহেল রানা দাপ্তরিক প্রয়োজনে একটি মোটরসাইকেলযোগে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। তারা জৈন্তাপুর উপজেলার বারাইকান্দি নামক এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক সজোরে তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাই রাস্তায় ছিটকে পড়ে মারাত্মক জখম হন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে আতিকুর রহমানের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই তৎপরতা চালিয়ে ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত ট্রাক চালক মঞ্জুর হোসেন ও তার সহযোগী হেলপার ফয়সালকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত চালক মঞ্জুর হোসেনের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা এলাকায় এবং হেলপার ফয়সাল ফেনী সদরের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে হারানো অত্যন্ত বেদনার। ঘাতক ট্রাকটি শনাক্তের পাশাপাশি চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুতে সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।