
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নিজ কক্ষেই ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। গত ৪ মার্চ বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান শিক্ষিকাকে আঘাত করার পর নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে ফজলুর রহমান ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিভাগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ রুনার কক্ষ থেকে বাঁচার আকুতি শুনে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিক্ষিকাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং একই সময়ে অভিযুক্ত কর্মচারীকে নিজের গলায় আঘাত করতে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কর্মস্থলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আর্থিক টানাপোড়েন কাজ করেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রমতে, ফজলুর রহমান আগে সমাজকল্যাণ বিভাগে দৈনিক হাজিরাভিত্তিতে কাজ করতেন, কিন্তু তার আচরণগত সমস্যার কারণে মাসখানেক আগে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। ফজলুর রহমানের স্বজনদের দাবি, গত ৯ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন এবং এই ক্ষোভ থেকেই হয়তো এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় তার অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, বেতন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি এবং পুলিশ বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে।