
খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম সড়কে বেপরোয়া গতির বলি হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসার মুখেই নগরীর জেলা পরিষদের সামনে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে মৌমিতা হালদার (২৬) নামের ওই তরুণীর প্রাণ। রিকশাযোগে গন্তব্যে যাওয়ার পথে একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকার পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মৌমিতা নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তরুণ হালদারের মেয়ে। এই অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবারসহ গোটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শোকের স্তব্ধতা নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মৌমিতা রিকশায় চড়ে যাচ্ছিলেন। জেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেটকার রিকশাটিকে আঘাত করে, যার ফলে তিনি ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর জখম হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা এবং দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। মুহূর্তের এই অসতর্কতা আর বেপরোয়া ড্রাইভিং একটি সাজানো গোছানো পরিবারের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিল।
খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ঘাতক গাড়িটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার পর চালক গাড়িটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। জনবহুল এলাকায় এমন গতির প্রতিযোগিতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারীরা। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, দোষীকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
মৌমিতা হালদারের এই প্রস্থানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা তাদের প্রিয় বান্ধবীর এমন বিয়োগান্তক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই দুর্ঘটনা নিয়ে চলছে তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি। জীবনের রঙিন স্বপ্নগুলো যখন ডানা মেলতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই একটি ঘাতক চাকা থামিয়ে দিল তার পথচলা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ঘাতক গাড়ি ও চালককে আটকের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।