
দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে কোস্টগার্ড। গত বুধবার সকালে উপজেলার দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রায় এক হাজার সাতশ কেজি অবৈধ জাটকা মাছ জব্দ করা হয়। পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ‘ইসলাম পরিবহন’ নামক একটি বাসে করে এই বিপুল পরিমাণ মাছ পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ডের একটি চৌকস দল গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালালে লুকানো অবস্থায় থাকা জাটকাগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজভী আহমেদ সবুজ। আইন বহির্ভূতভাবে নিষিদ্ধ জাটকা পরিবহনের দায়ে এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ওই বাসের চালকসহ মোট তিন জন স্টাফকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাদের ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাটকা রক্ষায় এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ ধরনের নজরদারি ও অভিযান আগামীতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
জব্দকৃত ১৭০০ কেজি জাটকা মাছের পরবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে সেগুলো জনহিতকর কাজে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত মাছগুলো নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। এতে করে একদিকে যেমন সরকারের কঠোর অবস্থানের বার্তা পাচারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অসহায় ও দুঃস্থ শিশুদের জন্য আমিষের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। কোস্টগার্ডের এই সময়োচিত পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের তড়িৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
পরিবেশ ও প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে পরিবহন খাতে যারা এ ধরনের অবৈধ মালামাল বহনে সহায়তা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ঝালকাঠির এই অভিযানটি উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ মাছ শিকার ও পাচার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।