
হাড় ভেঙে গেলে প্লাস্টার, ভারী ধাতব পাত কিংবা স্ক্রু লাগিয়ে মাসের পর মাস অপেক্ষা করার দিন বোধহয় এবার ফুরিয়ে আসছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা এমন এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যা অনেকটা সাধারণ ‘গ্লু গান’-এর মতো কাজ করে ভাঙা হাড়কে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে জোড়া লাগিয়ে দেবে। এই উদ্ভাবনটি মূলত একটি থ্রি-ডি প্রিন্টিং কলমসদৃশ যন্ত্র, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বায়োপেন’। ভবিষ্যৎ চিকিৎসায় এটি হাড় ভাঙার প্রথাগত ও জটিল চিকিৎসা পদ্ধতিকে চিরতরে বদলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের তৈরি এই বিশেষ প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয় এক ধরনের উন্নত জৈব আঠা বা বিশেষ জেল। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা এই বায়োপেনের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভাঙা হাড়ের স্থানে নিখুঁতভাবে সেই জেল প্রয়োগ করতে পারেন। জেলটি প্রয়োগ করার পর সেটির ওপর অতিবেগুনি রশ্মি বা বিশেষ ধরনের আলো ফেললে তা দ্রুত শক্ত হয়ে হাড়ের মতোই মজবুত ও স্থায়ী একটি কাঠামো তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি শরীরের ভেতরেই হাড়ের প্রাকৃতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং অত্যন্ত স্বল্প সময়ে হাড়কে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসে।
বর্তমানে হাড় ভাঙার চিকিৎসায় প্লাস্টার কিংবা শরীরে ধাতব স্ক্রু বা পাত বসানোর যে পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, তা যেমন দীর্ঘমেয়াদী তেমনি অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্লাস্টার বা ধাতব যন্ত্রপাতির ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থোপেডিক চিকিৎসায় বায়োপেনের ব্যবহার শুরু হলে জটিল সব অস্ত্রোপচার অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং হাড় জোড়া লাগার সময়কালও কমে আসবে। চিকিৎসা প্রযুক্তির এই দ্রুত উন্নতির ধারায় গবেষকদের প্রবল বিশ্বাস যে, একদিন হয়তো হাড় ভাঙার চিকিৎসায় প্লাস্টার ব্যবহারের বিষয়টি কেবল চিকিৎসার ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে।