1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
প্রকৃতির রহস্যময় শিলাবৃষ্টি: আকাশ থেকে কেন ঝরে বরফখণ্ড, জেনে নিন বৈজ্ঞানিক নেপথ্য - khulnarprotichchobi
১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| শনিবার| দুপুর ১২:২৯|
শিরোনামঃ
খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবলীগ কর্মী নিহত ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ ডুমুরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, পথচারী নারী গুরুতর আহত খুলনায় লেক থেকে কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার নিরালার ভাড়া বাসায় গৃহবধূর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ বড় বোন হারিয়ে হাসতে ভুলে যাওয়া তাহসিনের মুখে আবারও হাসি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ লবণচরায় কেএমপির নিজস্ব থানা উদ্বোধন জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন উপলক্ষে গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা অনু‌ষ্ঠিত বটিয়াঘাটা উপজেলা মহিলাদলের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুন আক্তার মনির সুস্থতার কামনা বটিয়াঘাটা উপজেলা মহিলাদলের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুন আক্তার মনি হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা

প্রকৃতির রহস্যময় শিলাবৃষ্টি: আকাশ থেকে কেন ঝরে বরফখণ্ড, জেনে নিন বৈজ্ঞানিক নেপথ্য

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
Spread the love

 

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ও কখনো কখনো ভয়ংকর রূপ হলো শিলাবৃষ্টি। বিশেষ করে কালবৈশাখী বা তীব্র বজ্রঝড়ের সময় বৃষ্টির ফোঁটার পরিবর্তে আকাশ থেকে যখন ছোট-বড় বরফের টুকরো পড়তে থাকে, তখন জনমনে কৌতূহল ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই শিলাবৃষ্টি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি মেঘের অভ্যন্তরে সৃষ্ট এক জটিল বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়ার ফলাফল। যখন আকাশে শক্তিশালী বজ্রঝড় তৈরি হয়, তখন মেঘের ভেতর অত্যন্ত শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বাতাসের প্রবাহ বা ‘আপড্রাফট’ সৃষ্টি হয়। এই প্রবল বাতাস বৃষ্টির সাধারণ ফোঁটাগুলোকে বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে ঠেলে নিয়ে যায়, যেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকে। অত্যন্ত শীতল সেই পরিবেশে পানির ফোঁটাগুলো মুহূর্তেই জমে শক্ত বরফকণায় রূপান্তরিত হয়।

শিলা তৈরির এই প্রক্রিয়াটি মেঘের ভেতরে এক অবিরাম চক্রের মতো চলতে থাকে। ঊর্ধ্বমুখী বাতাসের চাপে এই বরফকণাগুলো মেঘের ভেতরে বারবার উপরে-নিচে ওঠানামা করতে থাকে। প্রতিবার নিচে নামার সময় এগুলোর গায়ে নতুন পানির স্তর লাগে এবং পুনরায় উপরে ওঠার সময় সেই পানি জমে বরফের নতুন আস্তরণ তৈরি করে। এভাবে বারবার স্তর জমার ফলে শিলার আকার ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকে। যখন শিলাখণ্ডের ওজন এতটাই বেড়ে যায় যে মেঘের ঊর্ধ্বমুখী বাতাস আর সেটিকে ধরে রাখতে পারে না, তখনই মহাকর্ষ বলের টানে তা প্রচণ্ড গতিতে ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে, যা আমরা শিলাবৃষ্টি হিসেবে দেখি।

মজার বিষয় হলো, আকাশ থেকে পড়া সব শিলা দেখতে একরকম হয় না; কোনোটি স্বচ্ছ কাঁচের মতো আবার কোনোটি ধোঁয়াটে বা সাদাটে হয়। শিলা জমার গতির ওপর ভিত্তি করেই এই রঙের ভিন্নতা তৈরি হয়। যদি পানির স্তরগুলো খুব দ্রুত জমে যায়, তবে বরফের ভেতরে বাতাস আটকে পড়ার সুযোগ পায়, যার ফলে শিলা সাদা বা ঘোলাটে দেখায়। অন্যদিকে, পানি জমার প্রক্রিয়াটি যদি ধীরে সম্পন্ন হয়, তবে বাতাস বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং শিলাটি কাঁচের মতো স্বচ্ছ রূপ ধারণ করে। শিলার এই গঠন বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদরা মেঘের ভেতরের তাপমাত্রা ও বাতাসের গতিবেগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন।

শিলাবৃষ্টি যেমন প্রকৃতির এক অনন্য দৃশ্য, তেমনি এটি জানমালের জন্য ব্যাপক ঝুঁকির কারণও হতে পারে। বড় আকৃতির শিলাখণ্ড ঘরবাড়ি, যানবাহনের কাঁচ এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। অনেক সময় পশুপাখি এমনকি মানুষের জন্যও এই ভারী শিলাবৃষ্টি প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে শিলাবৃষ্টির প্রকোপ অনেক বেশি থাকে; যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা, কলোরাডো ও ওয়াইওমিং অঞ্চলটি ‘হেইল অ্যালি’ নামে পরিচিত, যেখানে বছরে গড়ে সাত থেকে নয় দিন পর্যন্ত শিলাবৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। সামগ্রিকভাবে, মেঘের ভেতরের শক্তিশালী বাতাসের প্রবাহ আর হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রার সম্মিলিত ক্রিয়াই হলো এই শিলাবৃষ্টি—যা প্রকৃতির এক নিপুণ বৈজ্ঞানিক কারুকার্য।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025