
কুষ্টিয়ায় নিজ স্ত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আব্দুল আওয়ালকে (৪২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৮ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবীর সরকার জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল আওয়াল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর কুণ্ডুপাড়া গ্রামের আব্দুল করীম বিশ্বাসের ছেলে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর কুণ্ডুপাড়া গ্রামে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তিন সন্তানের জননী শাহানা খাতুন ওরফে জাহানারা খাতুন তাঁর স্বামী আব্দুল আওয়ালের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জেনে ফেলেন এবং এর প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আব্দুল আওয়াল ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে ধারালো হাসুয়া বের করে পরিবারের সদস্যদের সামনেই শাহানাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। গুরুতর জখম হয়ে শাহানা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এই পৈশাচিক হামলার সময় আসামির বৃদ্ধা মা বাধা দিতে গেলে পাষণ্ড ছেলে তাকেও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে খুনি আব্দুল আওয়ালকে হাতেনাতে আটক করে ইবি থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের বড় ভাই মো. শফিউদ্দিন বাদী হয়ে ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক শাহ আলী মিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২০২০ সালের ৩ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত পাওয়ায় এই কঠোর শাস্তির রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাডভোকেট খন্দকার সিরাজুল ইসলাম রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, পরকীয়ার জেরে নিজ স্ত্রীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিচার পাওয়ার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।