
খুলনার রূপসা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যুতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত মিম্মি বেগম (৪৪) ওই গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘাতক ছেলের নাম নাদিম ইসলাম বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতককে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে ছেলে নাদিম তার মা মিম্মি বেগমের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে নাদিম হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বাড়ির পাশে পড়ে থাকা গাছের ডাল দিয়ে তার মায়ের মাথায় সজোরে আঘাত করে। গুরুতর এই আঘাতে মিম্মি বেগম তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রতিবেশীরা দ্রুত পুলিশে খবর দিলে আইচগাতি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাদিমকে আটক করতে সক্ষম হয়।
তবে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ যখন ঘাতক নাদিমকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে নিকটস্থ একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে খুলনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সার্কেল এসপি এ. সাইফুল ইসলাম সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জসহ ডিবি পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক নাদিম ইসলাম বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।