
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাতে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ধানেরশীষ গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা পুকুরে বিষ মিশিয়ে দেওয়ায় প্রজেক্টের বিপুল পরিমাণ মাছ মরে ভেসে উঠেছে। ভুক্তভোগী মৎস্যচাষি ইব্রাহিম ধনু জানান, তাঁর পুকুরে চাষ করা প্রায় ৮ থেকে ১০ প্রজাতির মাছ বিষক্রিয়ায় মারা গেছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ টাকারও বেশি। এই ঘটনায় ঋণের টাকায় গড়ে তোলা প্রজেক্ট হারিয়ে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব।
ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগী ইব্রাহিম অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় নুরনবী, ইউনুস ও ইয়াকুব নামের তিন ভাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিকল্পিতভাবে তাঁর পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন। রাত ১০টার দিকে পুকুরের মাছ একে একে মরে পানির উপরে ভেসে উঠতে শুরু করলে স্থানীয়দের চিৎকারে বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, এই তিন ভাইয়ের সাথে আগে থেকেই শত্রুতা চলে আসছিল এবং সেই আক্রোশ থেকেই তাঁরা এমন চরম ক্ষতি সাধন করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন ইয়াকুব হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি চলমান মামলার জের ধরে ইব্রাহিম তাঁদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ও ফাঁসাতে এই মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছেন।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর পেয়ে চরজব্বর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং প্রকৃত ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। শত্রুতার জেরে এমন ক্ষতি সাধন করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। একটি সাধারণ বিরোধের জেরে এমন নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।