
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ এখন কেবল বার্তা আদান-প্রদান বা ভিডিও কলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেটার মালিকানাধীন এই অ্যাপটি নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবন যোগ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবহারকারীদের প্রাত্যহিক জীবনকে আরও সহজ করতে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হতে যাচ্ছে সরাসরি মোবাইল রিচার্জ করার সুবিধা। এর ফলে প্রি-পেইড গ্রাহকদের রিচার্জের প্রয়োজনে এখন থেকে আর বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপ কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
প্রতিষ্ঠানটি বেশ আগে থেকেই তাদের প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা বা ইউপিআই ব্যবস্থা চালু করেছিল। যেখানে ব্যবহারকারীরা একে অপরকে অর্থ পাঠানো, গ্রহণ করা কিংবা বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ করার সুযোগ পেতেন। সেই অভিজ্ঞতায় গ্রাহকদের ইতিবাচক সাড়া মেলায় এবার সেবার পরিধি বাড়িয়ে মোবাইল রিচার্জ ফিচারটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ এখন সাধারণ মেসেজিং অ্যাপ থেকে একটি শক্তিশালী ফিনটেক বা আর্থিক সেবা প্রদানকারী মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
নতুন এই সুবিধাটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস—উভয় ধরনের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্যই উন্মুক্ত করা হবে। তবে এই সেবা পেতে হলে ব্যবহারকারীকে অবশ্যই অ্যাপটির সর্বশেষ সংস্করণটি ব্যবহার করতে হবে। রিচার্জ করার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত সহজ এবং ব্যবহারকারীবান্ধব রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা তাদের চ্যাট উইন্ডোর অ্যাটাচমেন্ট আইকন কিংবা অ্যাপের মেনু সেকশনে থাকা পেমেন্ট অপশন থেকে খুব সহজেই ‘মোবাইল রিচার্জ’ ফিচারটি খুঁজে পাবেন। সেখানে নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর প্রদান করে অপারেটর এবং রিচার্জের জন্য নির্ধারিত প্ল্যানটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ইউপিআই-এর মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে লেনদেন হবে মুহূর্তেই। আর নতুন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই ডিজিটাল সেবার আওতায় আসতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফিচারের কারণে ব্যবহারকারীদের ফোনে আলাদা করে একাধিক পেমেন্ট অ্যাপ রাখার ঝামেলা কমবে, যা ডিজিটাল লেনদেনকে আরও ত্বরান্বিত করবে। সব মিলিয়ে, যোগাযোগের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের সকল সুবিধা এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ভবিষ্যতে একটি অতি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে পরিণত হতে যাচ্ছে।