1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হিট স্ট্রোক নাকি হার্ট অ্যাটাক, জীবন বাঁচাতে লক্ষণ চেনার উপায় - khulnarprotichchobi
১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ৮:৫৩|
শিরোনামঃ
বিশ্ব যোগাসনে খুলনার কৃতি সন্তান মামুনের অনন্য সাফল্য খুলনায় ৯ বছরের শিশু রায়হান সিনহা নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি রূপসার নৈহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ বিস্তার, উদ্বেগে সাধারণ মানুষ ডিবি পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে কেএমপি থেকে বদলি জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনা পিটিআই, দুর্ভোগে শিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থীরা শিশু রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিঘলিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হিট স্ট্রোক নাকি হার্ট অ্যাটাক, জীবন বাঁচাতে লক্ষণ চেনার উপায় ঘরে বসে আয়ের ফাঁদ: ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে সর্বস্বান্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, নেপথ্যে সক্রিয় শক্তিশালী সাইবার চক্র হাতের স্মার্টফোনই এখন প্রথম অফিস: ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বদলে যাচ্ছে তরুণদের ভাগ্য

তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হিট স্ট্রোক নাকি হার্ট অ্যাটাক, জীবন বাঁচাতে লক্ষণ চেনার উপায়

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
Spread the love

 

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন, আর এই চরম আবহাওয়ার কারণে হাসপাতালগুলোতে ক্রমাগত বাড়ছে অসুস্থ মানুষের ভিড়। তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের এই সময়ে অনেকেই হঠাৎ প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া কিংবা আচমকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই উপসর্গগুলো সাধারণ মনে হলেও, এগুলো অনেক সময় মানবদেহের দুটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি—হিট স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই দুটি জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকিকে এক করে ফেলার একটি প্রবণতা দেখা যায়, কারণ উভয়েরই বেশ কিছু প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে বাহ্যিক মিল রয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে সৃষ্ট জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি, যার তাৎক্ষণিক প্রতিকার ও প্রাথমিক চিকিৎসাও আলাদা। তাই এই দুইয়ের মধ্যকার সূক্ষ্ম ও বড় পার্থক্যগুলো সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সঠিক সিদ্ধান্তই পারে সংকটাপন্ন কোনো মানুষের জীবন বাঁচাতে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া তথ্য ও গবেষণা অনুযায়ী, যখন পারিপার্শ্বিক চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানবদেহ নিজের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ বের করে দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, তখনই মানুষের শরীরে ‘হিট এক্সহশন’ এবং পরবর্তীতে তা মারাত্মক ‘হিট স্ট্রোকে’ রূপ নেয়। মূলত দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোদের মধ্যে অবস্থান করা, অতিরিক্ত গরম ও বদ্ধ পরিবেশে থাকা, তীব্র পানিশূন্যতা কিংবা তীব্র গরম আবহাওয়ার মধ্যে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং দেহের তাপমাত্রা দ্রুত বিপজ্জনক মাত্রায়, অর্থাৎ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট কিংবা তার চেয়েও উচ্চে পৌঁছে যায়। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক হয়ে ওঠে, অনেকের ক্ষেত্রে আবার অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার লক্ষণও দেখা যায়। এর পাশাপাশি তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, তীব্র মানসিক বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন আচরণ, দ্রুত হৃৎস্পন্দন এবং চরম পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তি খিঁচুনি উঠে পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন।

এর সম্পূর্ণ বিপরীতে, হার্ট অ্যাটাক মূলত মানবদেহের হৃৎপিণ্ড এবং সামগ্রিক রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার এক আকস্মিক জটিলতা। এটি তখনই ঘটে যখন হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলোতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে চর্বি জমে বা রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে হৃদপেশীগুলো তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। হার্ট অ্যাটাকের প্রধান ও চিরচেনা লক্ষণ হলো বুকে প্রচণ্ড ব্যথা, এক ধরনের তীব্র চাপ বা বুক আঁটসাঁট হয়ে থাকার অনুভূতি হওয়া। এই তীব্র ব্যথা অনেক সময় বুক থেকে ক্রমান্বয়ে বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ কিংবা কাঁধের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর সাথে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম হওয়া, হঠাৎ তীব্র দুর্বলতা এবং বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গ যুক্ত হয়। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেন যে, সবার ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এক নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারী এবং দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে কোনো ধরনের তীব্র ব্যথা ছাড়াই কেবল চরম ক্লান্তি, বদহজম, সামান্য অস্বস্তি কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো মৃদু উপসর্গ নিয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যা অনেক সময় সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণকে বেশ কঠিন করে তোলে।

এই দুটি ভিন্ন জীবনঘাতী পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তাৎক্ষণিক করণীয় ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াটিও ভিন্ন। যদি কোনো ব্যক্তি তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ থাকার পর হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখান, তবে তাকে এক মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত কোনো ছায়াযুক্ত, শীতল বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। এরপর দ্রুত তাঁর শরীর ঠান্ডা করার জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া বা পাখার বাতাস করার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে। অন্যদিকে, যদি কারোর মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সামান্যতম সন্দেহ বা লক্ষণও প্রকাশ পায়, তবে সেখানে ঘরের প্রাথমিক চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে চোখের পলকে রোগীকে নিকটস্থ হৃদরোগ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে; কারণ দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে হৃদপেশীর স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো এবং জীবন রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিশেষে বলা যায়, চলমান এই তীব্র গরমে শরীরের যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে সামান্যতম অবহেলা না করে সচেতন থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। দুই বিপজ্জনক রোগের লক্ষণগুলোর এই মৌলিক তফাত মাথায় রেখে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এই তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝেও নিজেদের ও চারপাশের প্রিয়জনদের জীবন সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025