
আল মাসুম সবুজ
স্বনামধন্য চিত্রগ্রাহক, নাট্যকার ও কবি তৈয়েব রহমানের স্মরণে গতকাল (শনিবার) বিকেলে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাঁর সহকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মরহুম তৈয়েব রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া শেষে প্রদর্শন করা হয় তৈয়েব রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন। এতে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদান, সৃষ্টিশীল কর্মযজ্ঞ এবং বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তারা বলেন, খুলনার কৃতি সন্তান তৈয়েব রহমান ছিলেন একজন সৃজনশীল, বিনয়ী ও মানবিক মানুষ। একজন দক্ষ চিত্রগ্রাহকের পাশাপাশি তিনি নাট্যকার, কবি, গীতিকার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সৃজনশীলতা এবং মানুষকে আপন করে নেওয়ার অসাধারণ গুণ তাঁকে সবার হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
আলোচনায় উঠে আসে তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নের প্রকল্প ‘লক্ষ মুক্তি সেনা’। বক্তারা জানান, দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনগাথা ভিডিও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংরক্ষণের মহৎ উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৈয়েব রহমান। ইতোমধ্যে তিনি বহু বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার ধারণও করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক প্রয়াণে সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনার আগেই থেমে যায়। বক্তারা তাঁর এই অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মরহুমের সহধর্মিণী পুতুল রহমান এবং একমাত্র সন্তান স্বপ্ন উপস্থিত সবার কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তাঁরা তৈয়েব রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীল কাজগুলো সম্পন্ন করতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ২০২৬ স্বনামধন্য চিত্রগ্রাহক, নাট্যকার ও কবি তৈয়েব রহমান ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর কর্ম, সৃষ্টি এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিত জীবন আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা।