
এস, এম আরাফাত আলী
দৈনন্দিন জীবনে স্মার্টফোনের অসংখ্য ব্যবহারের মাঝে ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় তা ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে নানা সংশয় ও ভ্রান্ত ধারণা। চার্জিং চলাকালে মেসেজিং, কল করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকলে ফোন স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ধীরগতিতে চার্জ হওয়ায় অনেকেই মনে করেন ব্যাটারির আয়ু বা চার্জ সংরক্ষণ ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং উন্নত চার্জিং প্রযুক্তির কারণে এটি সরাসরি ক্ষতি করে না; বরং ক্ষতিকারক মূল নিয়ামক হলো ফোনের অতিরিক্ত তাপমাত্রা।
বর্তমান সময়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের হালনাগাদ স্মার্টফোনগুলোতে যুক্ত করেছে শক্তিশালী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ফিচার ও বুদ্ধিমান ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এর অন্যতম যুগান্তকারী সংযোজন হলো ‘বাইপাস চার্জিং’ প্রযুক্তি। এই প্রক্রিয়ায় যখন কোনো ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় ব্যবহৃত হয়, তখন চার্জার থেকে আসা বৈদ্যুতিক শক্তি সরাসরি ব্যাটারিতে না গিয়ে ডিভাইসের মাদারবোর্ড ও প্রসেসর পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ফলে ব্যাটারিকে একই সাথে চার্জ গ্রহণ ও ডিসচার্জ করার দ্বিবিধ তাপীয় চাপ সহ্য করতে হয় না। স্যামসাং, গুগল, শাওমি ও জেডটিই-র মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের সাম্প্রতিক মডেলগুলোতে এই বাইপাস সুবিধা যুক্ত থাকায় গেম খেলা, উচ্চমানের ভিডিও দেখা বা ভারী অ্যাপ ব্যবহারের সময়ও ব্যাটারির তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমায় থাকে।
যদিও আপেলের আইফোনে এখনো সরাসরি বাইপাস চার্জিং ফিচার যুক্ত হয়নি, তবুও এটি চার্জ চলাকালীন ব্যবহারে ব্যাটারির বড় কোনো ক্ষতি সাধন করে না। হালনাগাদ প্রতিটি মানসম্পন্ন স্মার্টফোনেই ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হয়ে যাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ গ্রহণ বন্ধের মেকানিজম থাকে, যা অতিরিক্ত চার্জিংজনিত ভয় দূর করে। সারারাত ফোন প্লাগ-ইন করে রাখলে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার যে প্রচলিত কথা রয়েছে, আধুনিক অপটিমাইজড চার্জিং সুবিধার কারণে তাও এখন ভিত্তিহীন। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ফিচারটি ব্যবহারকারীর ঘুমানো ও জাগার অভ্যাসের সাথে মিল রেখে ধাপে ধাপে চার্জ সম্পন্ন করে, যা ব্যাটারির রাসায়নিক স্বাস্থ্য দীর্ঘদিন অটুট রাখে।
সাধারণ যোগাযোগ যেমন বার্তা পড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্রাউজ করা কিংবা ছবি তোলার মতো কাজগুলো চার্জে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। তবে চার্জে যুক্ত থাকা অবস্থায় ভারী ভিডিও এডিটিং বা দীর্ঘ সময় গেম খেলার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, কারণ এতে ডিভাইস অতিরিক্ত উত্তপ্ত হতে পারে। ব্যাটারির সার্বিক স্থায়িত্ব ও কর্মক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে বিশেষজ্ঞরা ফোনের চার্জের মাত্রা সবসময় ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেন। সামগ্রিকভাবে, চার্জিং অবস্থায় ফোন ব্যবহারে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; কেবল ফোনের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এড়িয়ে চলাই ব্যাটারি সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।