
খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ট্রেন এখন গন্তব্য তথা স্টেশনের অতি সন্নিকটে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। একটি দীর্ঘ সময় ভোটহীন এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এবারের নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন যে, আসন্ন এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ কার্যকর হবে এবং সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। রোববার মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, খুলনার প্রতিটি প্রান্তে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বিএনপি একটি গণমানুষের দল এবং জনগণের আমানত রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সম্মিলিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছে। খুলনার মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী এবং এই অঞ্চলকে বিএনপির অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতের মতো এবারও ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি নিরঙ্কুশ বিজয় উপহার দেবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করে মঞ্জু জানান, এবারের জয় হবে মূলত একটি ‘ভোট বিপ্লব’। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে খুলনা অঞ্চলে শিল্পায়ন, ব্যবসায়ীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বিশেষ কর্মসংস্থান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে খুলনায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা টেন্ডারবাজির স্থান হবে না। আইন-শৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যাতে প্রতিটি নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে।
গণসংযোগ চলাকালীন নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সাথে মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আনোয়ার হোসেন, আসাদুজ্জামান মুরাদ এবং ইকবাল হোসেন খোকনসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই প্রচারণায় অংশ নেন। নেতৃবৃন্দ খুলনার প্রতিটি ঘরে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ভোটারদের আগামী নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।