
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বাস চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর উত্তর পাশের ঢালে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত চালকের নাম কবির হোসেন, যিনি পাথরঘাটা থেকে ঢাকাগামী ‘ইসলাম পরিবহন’ (ঢাকা মেট্রো ব-১৩-২৩৪৬) বাসের চালক ছিলেন। বরগুনা জেলার বাসিন্দা কবির হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনায় অন্য বাসের চালকসহ অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহনের সঙ্গে বিপরীত দিক ঢাকা থেকে বরিশালগামী ‘লাবিবা পরিবহন’ (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৭৯)-এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দুটি বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বাবুগঞ্জ ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে লাবিবা পরিবহনের চালক রাসেলসহ ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে বাবুগঞ্জ থানা ও গৌরনদী মহাসড়ক থানা পুলিশ। বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম জানান, দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং নিহত চালকের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রীদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন।
গৌরনদী মহাসড়ক থানার ওসি শামীম শেখ জানিয়েছেন, মহাসড়কের ঢালে সংঘটিত এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে ওভারটেকিং নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা নিরূপণে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, একজন সহকর্মীর মৃত্যুতে এবং বহু যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাস দুটি উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।