
চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রারত Artemis II মিশনের নভোচারীরা শিগগিরই এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবেন। NASA জানিয়েছে, চাঁদের পেছনের অংশে প্রবেশের সময় এ ‘নীরব সময়’ তৈরি হবে।
গত ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা মহাকাশযানটি বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। চাঁদের মহাকর্ষীয় বলয়ে প্রবেশের পর এটি এখন চাঁদের আরও নিকটে পৌঁছাচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী দিবাগত রাত ৩টার দিকে মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ লাখ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করবে। এরপর মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে এটি চাঁদের বিপরীত পাশে চলে যাবে—যে অংশটি পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান নয়।
এই সময় চাঁদ মহাকাশযান ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করায় কোনো সিগন্যাল আদান-প্রদান সম্ভব হবে না। ফলে নভোচারীরা সম্পূর্ণরূপে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবেন প্রায় ৪০ মিনিট।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই সময় নভোচারীরা পূর্বনির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবেন। চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষে আবার পৃথিবীর সিগনালে ফিরে এলে মিশনের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
Artemis program-এর অংশ হিসেবে পরিচালিত এই মিশন ভবিষ্যতে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০২৮ সালের মধ্যে মানববাহী চন্দ্রাভিযানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই মিশনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিহাসে এর আগে Apollo program-এর সময়ও নভোচারীরা চাঁদের পেছনে গেলে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে Apollo 8 মিশনের মাধ্যমে প্রথমবার চাঁদের অদেখা অংশ প্রত্যক্ষ করেন নভোচারীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-২ মিশনের এই ৪০ মিনিটের ‘নীরব সময়’ ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান ও মহাকাশ যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।