
ডুমুরিয়ার খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করেই কেজিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে যা ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন সেই পেঁয়াজের দাম দাঁড়িয়েছে ১১০–১২০ টাকায়। একই সঙ্গে আলুর দামও কেজিতে ৩–৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রবিবার সকালে বাজারে পেঁয়াজ কিনতে এসে গৃহিণী সালেহা খাতুন বলেন, “কয়েক দিনের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম এতটা বেড়ে গেল! ভালো মানের পেঁয়াজ কোথাও ১১০ টাকার নিচে নেই।”
ডুমুরিয়ার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, দেশি পেঁয়াজের মজুত এখন প্রায় শেষের দিকে। অন্যদিকে ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি না থাকায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি।
খুচরা বিক্রেতাদের ধারণা, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আগাম মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। এর আগে নভেম্বরজুড়ে দাম আরও বাড়তি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে—
মানিকগঞ্জ/ফরিদপুর অঞ্চলের পেঁয়াজ: ১০০–১১০ টাকা
পাবনার ভালো মানের পেঁয়াজ: ১২০ টাকা
দুই সপ্তাহ আগে এসব পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৯০–১০০ টাকায়।
পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন,
“এখনো পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেই। দেশি সরবরাহও কম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত আমদানির অনুমতি দেওয়া জরুরি।”
বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে মোটা চাল ও ফার্মের ডিমের দামে।
ফার্মের ডিম (ডজন): ১২০–১৩০ টাকা (এক সপ্তাহ আগে ১৩০–১৪০)
ব্রয়লার মুরগি: ১৭০–১৮০ টাকা
সোনালি মুরগি: ২৭০–৩০০ টাকা
আমদানি করা স্বর্ণা চাল: ৫০ টাকা (আগে ছিল ৫৫)
পাইজাম চাল: ৫৫ টাকা (৫ টাকা কমেছে)
তবে মিনিকেট চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, ভারত থেকে আমদানি হওয়া স্বর্ণা ও পাইজাম চালের কারণে মোটা চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় সামগ্রিকভাবে সবজির দাম কমতির দিকে।
ফুলকপি/বাঁধাকপি: ৪০–৬০ টাকা
লাউ: ৬০–৮০ টাকা
টমেটো: ১২০–১৪০ টাকা
মুলা: ৫০ টাকা
বেগুন: ৮০–১২০ টাকা
করলা: ৭০–৮০ টাকা
শনিবার পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বাজারে ক্রেতা ছিল অস্বাভাবিকভাবে কম। ডুমুরিয়া, চুকনগর, টিপনা নতুন রাস্তা মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ক্রেতা সংখ্যা ছিল প্রায় অর্ধেক।