
চিংড়িতে জেলি পুশ করে ওজন বাড়ানোর অপচেষ্টার বিরুদ্ধে খুলনা জেলার ডুমুরিয়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। অভিযানে দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড এবং পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। রবিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডুমুরিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এই অভিযান পরিচালনা করে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগানের নেতৃত্বে “মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ১৯৯৭ (সংশোধিত ২০০৮)” অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মেসার্স সাগর ফিস: অভিযানে প্রথমে ডুমুরিয়া বাজারের মেসার্স সাগর ফিসে চিংড়িতে জেলি পুশের সত্যতা পাওয়া যায়। এই অপরাধে ডিপোকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় ১০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ও প্রায় ৩০ কেজি জেলি জব্দ করা হয়।
মেসার্স মোল্যা ফিস: একই বাজারের মেসার্স মোল্যা ফিসে পানি পুশের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেলে ডিপো মালিককে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে ডুমুরিয়া বাজারের আরও পাঁচটি ডিপোকে—ভাই ভাই ফিস, আবির ফিস, আয়শা ফিস, সঞ্জিত ফিস ও শ্রুতি ফিস—প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এসব ডিপো থেকে কোনো পুশকৃত চিংড়ি পাওয়া যায়নি।
পুশকৃত চিংড়ি প্রতারণার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অভিযান শেষে মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “পুশকৃত চিংড়ি প্রতারণার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। ভোক্তাদেরও সচেতন থাকতে হবে”।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য উপজেলায়ও এমন অভিযান জোরদার করা গেলে চিংড়ি শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম আরও শক্তিশালী হবে।