1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
ডা. গাজী মিজানুর রহমান ” দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক এক নাম - khulnarprotichchobi
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| রাত ১১:০০|
শিরোনামঃ
৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় দিঘলিয়ায় জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ যশোর বোর্ডে এসএসসি শুরু মঙ্গলবার, খুলনায় প্রস্তুতি সম্পন্ন খুলনায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম, আটক ১ খুলনায় বৈধতার দাবিতে মিশুক চালকদের মানববন্ধন দিঘলিয়ায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক জখম, এলাকায় উত্তেজনা খুলনায় ৯৩ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা: কাল থেকেই শুরু হচ্ছে মহাপ্রচারাভিযান পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তার নতুন পদায়ন কুড়িগ্রামে র‍্যাবের সাড়াঁশি অভিযান: বসতবাড়ির খাটের নিচ থেকে ৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, কারবারি গ্রেপ্তার তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি, রণক্ষেত্র এড়াতে সতর্ক পুলিশ ভোলায় কোস্ট গার্ডের সাড়াঁশি অভিযান: সোয়া লাখ টাকার নকল সিগারেট জব্দ, রাজস্ব ফাঁকির ছক নস্যাৎ

ডা. গাজী মিজানুর রহমান ” দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক এক নাম

আল মাসুম সবুজ
  • Update Time : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
Spread the love

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসা সেবার অগ্রযাত্রায় যে নামটি বিশেষভাবে উচ্চারিত—তিনি ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান। চিকিৎসক, সার্জন, উদ্যোক্তা, শিক্ষা-উদ্যোগী এবং সমাজসেবক—একজন মানুষের এতগুলো পরিচয় যখন একইসঙ্গে দীপ্ত হয়ে ওঠে, তখন তা শুধু পেশাগত সাফল্য নয়, মানবতার প্রতি অঙ্গীকারও বটে।

১৯৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ধলইতলা গ্রামে জন্ম। শৈশবেই মেধা ও অধ্যবসায়ের স্বাক্ষর রেখে ফরিদপুর হাই স্কুল থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে মেধা তালিকায় স্থান অর্জন করেন। তাঁর অসাধারণ ফলাফলের জন্য তৎকালীন সোভিয়েত সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৭৬ সালে রাশিয়ার দোনেটস্ক স্টেট ম্যাক্সিম গোর্কি মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এমডি ডিগ্রি এবং ১৯৮৫ সালে জেনারেল সার্জারিতে ক্লিনিকাল অর্ডিনাটুরা শেষ করেন।

বিদেশে আকর্ষণীয় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ১৯৮৬ সালে দেশেই ফিরে আসলেন তিনি—নিজ ভূমির মানুষের জন্য কাজ করতে। রংপুর মেডিকেল কলেজে ট্রেনিং শেষ করে সরকারি চাকরি ছেড়ে ১৯৮৮ সালের ৮ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন খুলনা সার্জিক্যাল ক্লিনিক। এখান থেকেই শুরু হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আধুনিক সার্জারির নতুন অধ্যায়। পরে দেশ-বিদেশে এন্ডোস্কপি, থেরাপিউটিক এন্ডোস্কপি এবং ল্যাপারোস্কপিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে হয়ে ওঠেন অঞ্চলের অগ্রগণ্য সার্জন। এ পর্যন্ত তিনি ৫০ হাজারেরও বেশি অপারেশন সম্পন্ন করেছেন—এ সংখ্যা তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আস্থার প্রতীক।

তিনি সদস্য হয়েছেন—

American Society for Gastrointestinal Endoscopy

Society of Gastrointestinal Endoscopy of India

Society for Gastrointestinal Intervention of Korea

চিকিৎসা সেবা ও মেডিকেল শিক্ষায় বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন গাজী মেডিকেল কলেজ, খুলনা—দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। আজ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও আধুনিক মেডিকেল শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

চিকিৎসা শিক্ষা বিস্তার ও মানবসেবায় অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন—

Manager of the Year Award – ইউরোপ বিজনেস অ্যাসেম্বলি, ফ্রান্স

Best Medical College Category – International Socrates Award 2015

Mother Teresa International Award 2016 – কলকাতা

মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে তিনি বাস্তব রূপ দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে—

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান : গাজী মেডিকেল কলেজ

প্রতিষ্ঠাতা এমডি : গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লিমিটেড

প্রতিষ্ঠাতা : জি এম আর নার্সিং ইনস্টিটিউট (খুলনার একমাত্র প্রাইভেট নার্সিং ইনস্টিটিউট)

প্রতিষ্ঠাতা : আলোর দিশারী নার্সারি স্কুল (৭০ শিশু বিনামূল্যে শিক্ষাগ্রহণ)

পৃষ্ঠপোষক : ধলইতলা মাদরাসা ও ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন পেশাগত সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন।

চিকিৎসা পেশার কঠোর শৃঙ্খলার পাশাপাশি সংগীতের প্রতি তাঁর ঝোঁক একেবারে শৈশব থেকে। বিদেশে অধ্যয়নের সময় আন্তর্জাতিক ব্যান্ড গ্রুপের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর যুক্ত ছিলেন। দেশে ফিরে আধুনিক গান, গীতিকা ও সুরারোপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে তিনি নির্মাণ করছেন দেশপ্রেমের গান নিয়ে “সোনার বাংলা” সিরিজ, যার ৭ম অ্যালবাম ইতোমধ্যে প্রকাশিত। লক্ষ্য—কমপক্ষে ১০টি অ্যালবাম।

সারাদিন রোগী দেখার ব্যস্ততা, সন্ধ্যায় অপারেশন থিয়েটার, আর রাত নামলে তাঁর আশ্রয় “ঢাক ঢোল” নামের নিজস্ব স্টুডিও। সেখানে গিটার, কি-বোর্ড আর সুরের সঙ্গে আবারো এক নতুন মানুষ হয়ে ওঠেন তিনি।
চিকিৎসা ও সংগীত—দুটি ক্ষেত্রেই তাঁর নিষ্ঠা একইরকম গভীর।

ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান—
একজন সার্জন, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, সমাজসেবক এবং শিল্পী। একজন মানুষের ভেতর এতো গুণ, এতো মানবিকতা, এতো দায়িত্ববোধ—খুলনা তথা বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025