
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় ইরি-বোরো ধান রোপণের মৌসুম শুরু হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণিরা। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করেই মাঠে নেমেছেন তারা। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে এখন বোরো রোপণকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও জমিতে হালচাষ চলছে, কোথাও বীজতলা থেকে ধানের চারা তোলা হচ্ছে, আবার কেউ কেউ জমিতে চারা রোপণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়েই এই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর।
ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হযরত আলী জানান, শীতের কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকায় বীজতলার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন। তিনি নিজে দুই বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ ধানের আবাদ করেছেন। খরচ বেশি হলেও ধানের বাজারদর কম থাকায় লাভ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
উপজেলার আটলিয়া গ্রামের কৃষক অহিদুজ্জামান জানান, তিনি এবার প্রায় দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। শ্রমিক সংকটের কারণে চুক্তিভিত্তিতে চারা রোপণের কাজ করাতে হয়েছে। বিঘাপ্রতি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। বীজতলা, চারা রোপণ, সার ও ওষুধসহ বিঘাপ্রতি খরচ পড়েছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। আবার কেউ কেউ দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করে কাজ করাচ্ছেন।
রুদাঘরা ইউনিয়নের চহেড়া গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, কৃষি উৎপাদনের খরচ দিন দিন বাড়লেও ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও ধানের দাম সে অনুযায়ী বাড়েনি। দালাল ও ফড়িয়াদের কারণে প্রতিবছরই কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে বর্গাচাষিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইরি-বোরো আবাদ এগিয়ে চলছে। বাজারে ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশসহ সব ধরনের সার ও জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বোরো মৌসুমে সারের কোনো সংকট হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, উপজেলায় ২১ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল জাত চাষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।