
জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জীবনের পথে হাঁটা তার জন্য কখনোই সহজ ছিল না। তবুও দারিদ্র্য, অবহেলা আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে আত্মমর্যাদার পতাকা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন মোঃ কালু হাওলাদার।
ঝালকাঠি জেলার সন্তান কালু হাওলাদারের বয়স এখন প্রায় ৬০ বছর। গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে হলেও জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বসবাস করছেন খুলনা রেল কলোনী এলাকায়। জন্মগত প্রতিবন্ধকতা তাঁকে শারীরিকভাবে দুর্বল করলেও মানসিকভাবে কখনো ভেঙে পড়তে পারেনি।
দীর্ঘ ছয় দশকের জীবনে আজও তিনি পাননি কোনো প্রতিবন্ধী কার্ড, পাননি সরকারি ভাতা বা রাষ্ট্রের কোনো সহায়তা। একাধিকবার চেষ্টা করেও প্রশাসনিক জটিলতা ও অবহেলার কারণে বঞ্চিতই থেকে গেছেন তিনি। তবুও হতাশার কাছে মাথা নত করেননি কালু হাওলাদার।
প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ভিক্ষা করাকে কখনোই নিজের জীবনের পথ হিসেবে বেছে নেননি তিনি। আত্মসম্মানবোধ থেকেই ভিক্ষার হাত বাড়াননি কারও কাছে। বরং জীবনের প্রয়োজনে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম। রাস্তায় রাস্তায়, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ঘুরে ঘুরে কলম বিক্রি করেই চলছে তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপন।
চরম দারিদ্র্য, শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর সামাজিক অবহেলার মাঝেও তাঁর এই সংগ্রাম যেন আত্মমর্যাদার এক জীবন্ত উদাহরণ। কলম বিক্রির প্রতিটি মুহূর্তে তিনি যেন বলে দেন—প্রতিবন্ধকতা মানুষকে থামাতে পারে না, যদি তার মনোবল দৃঢ় থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, মোঃ কালু হাওলাদারের মতো সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দ্রুত তাঁর প্রতিবন্ধী কার্ড ও সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা গেলে শুধু একজন মানুষের জীবনই স্বস্তি পাবে না, বরং মানবিকতার একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্তও স্থাপিত হবে।
এই নিঃশব্দ যোদ্ধা আমাদের মনে করিয়ে দেন—সহানুভূতির চেয়ে বেশি প্রয়োজন সম্মান ও সুযোগ। মোঃ কালু হাওলাদারের জীবন তাই কেবল একটি গল্প নয়, এটি সমাজের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্নও বটে।