1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
রূপসা তীরে কর্মচাঞ্চল্য একসঙ্গে ২০ জাহাজ নির্মাণে ব্যস্ত খুলনা শিপইয়ার্ড - khulnarprotichchobi
২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| বুধবার| সকাল ৯:০২|
শিরোনামঃ
আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে সোনাডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ,নগর প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার আপন শহরে সমাধির জন্য দুই গজ মাটিও জুটল না মুঘল শেষ সম্রাট জাফরের সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩৪ পদে নিয়োগ আজ থেকে নতুন দামে জ্বালানি তেল, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা। দিঘলিয়ায় বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গভীর রাতে যুবকের মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে রহস্য। চিত্রার তীরে ধ্বংসস্তূপে ঢাকা নড়াইলের আড়াইশ বছরের হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ি কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে কিয়ন্তি স্মৃতি: নড়াইলে নিহার রঞ্জন গুপ্তের পৈতৃক নিবাসের বর্তমান হালচাল খুলনার ‘হোয়াইট হাউস’: বিদ্যুৎ ও নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা ঘোষ জমিদার বাড়ির ইতিহাস

রূপসা তীরে কর্মচাঞ্চল্য একসঙ্গে ২০ জাহাজ নির্মাণে ব্যস্ত খুলনা শিপইয়ার্ড

এম রোমানিয়া
  • Update Time : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
Spread the love

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প বিকাশে দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড। খুলনা রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সরকারি ও আধা-সরকারি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একসঙ্গে ২০টি জাহাজ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাহাজ হস্তান্তরের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে জাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে শিপইয়ার্ডের বিস্তীর্ণ ডক এলাকায় দেখা যায়, নির্মাণাধীন একাধিক জাহাজ। কোথাও লোহার পাত জোড়া লাগানোর শব্দ, কোথাও ওয়েল্ডিংয়ের ঝলক—সব মিলিয়ে দিন-রাত কর্মচাঞ্চল্যে মুখর খুলনা শিপইয়ার্ড।

বর্তমানে এখানে নির্মাণাধীন জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজ, মোংলা বন্দরের একটি রেসকিউ ভেসেল, পায়রা বন্দরের দুটি টাগ বোট, একটি সার্ভে ভেসেল ও একটি পাইলট ভেসেল।

পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য নির্মিত হচ্ছে ১২টি ড্রেজার ও জিআরপি ক্যাটামারান বোট।

সবগুলো জাহাজ আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে হস্তান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কাজ করছেন প্রায় এক হাজার ২০০ শ্রমিক। ওয়েল্ডার, ফিটার, রং শ্রমিক ও যন্ত্রাংশ স্থাপনসহ নানা কাজে নিয়োজিত এসব শ্রমিক নিয়মিত কাজের পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছেন।

শিপইয়ার্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড দিনে দিনে অনেক উন্নতি করছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তারা সময়মতো বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

শ্রমিক মো. আল আমিন বলেন, এখন নিয়মিত কাজ পাই এবং সময়মতো বেতন পাওয়া যায়। বড় জাহাজে কাজ করার ফলে আমাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বেড়েছে। আগে কাজ অনিশ্চিত ছিল, এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে চলতে পারছি।

ওয়েল্ডার মো. রাশেদ হোসেন জানান, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করতে পারছি। নিয়মিত প্রশিক্ষণের ফলে কাজের মান ভালো হচ্ছে এবং ঝুঁকিও কমছে।

খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (ডিজাইন অ্যান্ড প্ল্যানিং) ক্যাপ্টেন এএফএম এনামুল হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত জাহাজ নির্মাণ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

একসঙ্গে এতগুলো জাহাজ নির্মাণ চলার অর্থ হলো—এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার আস্থা দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মো. শহীদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ভবিষ্যতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও বড় আকারের জাহাজ নির্মাণে এগিয়ে যেতে চাই। ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে বিদেশ নির্ভরতা কমানোই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, অন্তত মাঝারি আকারের জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশকে আর বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হবে না। আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে ৬৯ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এখন পর্যন্ত ৮০০টিরও বেশি জাহাজ নির্মাণ করেছে।

একসময় লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে লাভজনক ধারায় ফিরে আসে। সর্বশেষ অর্থবছরে শিপইয়ার্ডের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিল্প খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে খুলনা শিপইয়ার্ডের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025