
দেশের দুগ্ধ খাতের শীর্ষস্থানীয় সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা (বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন আমির হামজা শাতিল। সমবায় খাতের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের দুগ্ধ উৎপাদন ও বিপণনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই প্রতিষ্ঠানে নতুন নেতৃত্বের এই সংযুক্তিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যক্তিবর্গ।
আমির হামজা শাতিলের এই নিয়োগের পর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশা প্রকাশ করছে যে, তাঁর হাত ধরে মিল্ক ভিটার সার্বিক কার্যক্রমে নতুন এক গতিশীলতা সঞ্চার হবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের খামারিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং দুগ্ধ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর ক্ষেত্রে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর মূল লক্ষ্য হবে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও মজবুত করা এবং উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিকায়ন করা।
দেশের দুগ্ধ শিল্প বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মিল্ক ভিটার মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে আমির হামজা শাতিলের এই দায়িত্ব গ্রহণ সময়োপযোগী। বিশেষ করে খামারি পর্যায়ে দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি কৃষকদের লাভবান করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। একই সাথে দেশের ক্রমবর্ধমান দুগ্ধ চাহিদা মেটাতে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে তিনি নতুন কোনো কৌশল বা প্রকল্প গ্রহণ করবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রান্তিক দুগ্ধ খামারিদের ভাগ্য উন্নয়নে এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মিল্ক ভিটা কয়েক দশক ধরে কাজ করে আসছে। একটি সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর প্রতিটি সিদ্ধান্তের সাথে দেশের হাজার হাজার খামারির স্বার্থ জড়িত থাকে। তাই নতুন চেয়ারম্যানের অধীনে মিল্ক ভিটা কেবল ব্যবসায়িক সফলতাই নয়, বরং দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের দৃঢ় বিশ্বাস।