
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভোগার পর অবশেষে সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি চিরবিদায় নিলেন। তার এই আকস্মিক প্রয়াণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান হাজারো নেতাকর্মী।
বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে দেশজুড়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। জানাজা পরবর্তী দাফনের স্থান নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকার পাশে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে তার স্বামী এবং বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রিয় নেত্রীর শেষ ইচ্ছা এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্মানের কথা বিবেচনা করেই তাকে তার স্বামীর পাশে দাফন করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে দল ও পরিবার।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে সারা দেশে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে তাদের প্রিয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও নিশ্চিত করেছেন যে, জানাজার সঠিক সময় এবং দাফনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সাথে সমন্বয় করে দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার এই প্রস্থানকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিশাল শূন্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার রেশ রয়ে যাবে দীর্ঘকাল।