
খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মিজানুর রহমান সবুজ নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গত রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃত সবুজ সাতক্ষীরা জেলার একটি ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বরত বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে খুলনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী শায়েখ মাহমুদ শাওন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ তাশিক আহমেদকে কৌশলে শিববাড়ি মোড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা ও হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সবুজকে আইনের আওতায় আনে। গ্রেপ্তারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত এই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কেবল রাজনৈতিক সহিংসতাই নয়, বরং অপরাধ জগতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মিজানুর রহমান সবুজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অর্থ আত্মসাৎ, চেক জালিয়াতি এবং সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার দায়ে একাধিক মামলা চলমান। এছাড়া সাতক্ষীরা অঞ্চলের একটি এটিএম বুথ ডাকাতির ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে। ডাকাতির সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য নথিপত্র বর্তমানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তাধীন রয়েছে।
সবুজের নৈতিক স্খলন ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার বিষয়টিও বর্তমানে টক অব দ্য টাউন। বিভিন্ন সময়ে নারী কেলেঙ্কারি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তার ভাবমূর্তি নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।