
বিভাগীয় নগরীর প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কঠোর নিরাপত্তা বলয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফের চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে এক অসহায় ভ্যানচালকের আয়ের একমাত্র উৎস ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। ভরদুপুরে এমন ব্যস্ততম স্থানে চুরির ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ভ্যানচালক জানান, তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে একজন মুমূর্ষু রোগী নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন। রোগী হাসপাতালে ভর্তির পর তার স্বজনরা জরুরি ভিত্তিতে কিছু ওষুধ ও পথ্য কিনে আনার অনুরোধ করলে তিনি মানবিকতার খাতিরে দ্রুত বাইরে যান। কেনাকাটা শেষে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ফিরে এসে তিনি দেখেন নির্ধারিত স্থানে তার ভ্যানটি আর নেই। আয়ের একমাত্র সম্বল হারিয়ে হাসপাতালের চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই চালক। তার আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় এবং উপস্থিত পথচারীরাও এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন।
চুরি হওয়া ভ্যানটির বর্ণনা দিতে গিয়ে চালক জানান, এটি একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিল যার ব্যাটারিটি একদম নতুন লাগানো। শনাক্তকরণের জন্য তিনি উল্লেখ করেন যে, ভ্যানটির মাটঘাট কিছুটা ভাঙা ছিল এবং এর বসার গদিতে লাল রঙের ছিটের কাজ ছিল। ডুমুরিয়া থেকে টেনেটুনে সংসার চালানো এই ব্যক্তির কাছে ভ্যানটিই ছিল জীবনধারণের প্রধান অবলম্বন। বর্তমানে তিনি এতটাই দিশেহারা যে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে সার্বক্ষণিক লোকসমাগম ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির পরেও কীভাবে একটি ভ্যান উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগী ওই চালক কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি তার ভ্যানটির সন্ধান পান তবে ০১৮১০৯৬৫৫২২ এই মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি প্রশাসনের কাছে তার শেষ সম্বলটুকু উদ্ধারে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।