
খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি প্রার্থীদের সম্পদের হিসাব এখন আলোচনার কেন্দ্রে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ প্রার্থীর মধ্যে মোট সম্পদের হিসেবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। তবে বার্ষিক আয়ের অংকে সবার উপরে অবস্থান করছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমির এজাজ খান। সম্পদের এই অসম লড়াই নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আসন্ন নির্বাচনে এই আসনের অন্যতম আলোচিত মুখ জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, যার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৬৬ লাখ টাকারও বেশি। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ২ লাখ টাকা, যার সিংহভাগই অর্থাৎ ১৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নগদ অর্থ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার রয়েছে ডুমুরিয়ার চুকনগরে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের দুটি তিনতলা ভবন এবং ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা মূল্যের অন্যান্য ভূ-সম্পত্তি। পরিবহন হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন একটি নিশান জিপ ও একটি টয়োটা প্রোভোক্স প্রাইভেট কার, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৭ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসএসসি পাস এই প্রার্থী গত অর্থবছরে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন এবং কৃষি ও ব্যবসা খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, আয়ের পাল্লায় জামায়াত প্রার্থীকে অনেক পেছনে ফেলেছেন বিএনপির অভিজ্ঞ প্রার্থী আমির এজাজ খান। বিএ পাস এই রাজনীতিকের বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা মূলত ব্যবসা, কৃষি, এফডিআর ও মূলধনী লাভ থেকে অর্জিত হয়। যদিও তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা জামায়াত প্রার্থীর তুলনায় অনেক কম। হলফনামায় তিনি ৩৬ লাখ টাকা নগদ এবং ব্যাংকে ২৫ লাখ টাকা থাকার তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া তার ৮৫ লাখ টাকার এফডিআর, ৪০ লাখ টাকার যানবাহন এবং ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। আইনগত তথ্যে জানা গেছে, আমির এজাজ খানের নামে বর্তমানে ১৩টি মামলা থাকলেও এর মধ্যে বেশ কিছু থেকে তিনি ইতিমধ্যে খালাস পেয়েছেন বা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হলফনামার এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, খুলনা-১ আসনে ভোটের লড়াইয়ের পাশাপাশি সম্পদের এই বৈচিত্র্যময় পরিসংখ্যান ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন কোটি টাকার বার্ষিক আয়ের অধিকারী বিএনপির প্রার্থী, অন্যদিকে বিশ কোটি টাকারও বেশি নিট সম্পদের মালিক জামায়াত প্রার্থী—উভয়ই এখন নির্বাচনী ময়দানে একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ভোটাররা এখন দেখছেন, এই অর্থনৈতিক সক্ষমতা নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।