
সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত দুই পর্যটক ও এক রিসোর্ট মালিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। দীর্ঘ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে রবিবার সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ এলাকা থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম মৃধার মা ও সহযোগীসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা কমান্ডার আবরার হাসান এবং মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার, ২ জানুয়ারি। ঢাকা থেকে আসা সাতজন পর্যটক সুন্দরবন সংলগ্ন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গোলকানন রিসোর্ট থেকে একটি কাঠের বোটে করে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় ভ্রমণে বের হন। বনের গভীরে প্রবেশ করলে ডাকাত সর্দার মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি বনদস্যু দল বোটটি থামিয়ে সবাইকে জিম্মি করে। সেদিন সন্ধ্যায় নারী পর্যটক ও মাঝিসহ চারজনকে ছেড়ে দিলেও জাহিদুল ইসলাম জনি, সোহেল এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়কে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় দস্যুরা। এরপরই অপহৃতদের পরিবারের কাছে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে যৌথ বাহিনী।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ জানুয়ারি দস্যু মাসুমের তিন সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার, মোঃ সালাম বক্স ও মেহেদী হাসানকে গোলকানন রিসোর্ট এলাকা থেকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে আলম মাতব্বর নামে আরও একজনকে আটক করা হয়। এদিকে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকায় বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের খবর পায় গোয়েন্দারা। সেখানে ওত পেতে থেকে মুক্তিপণের ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ দস্যু সর্দার মাসুমের মা জয়নবী বিবি এবং বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এই ধারাবাহিক অভিযানে দস্যুদের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে এবং আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
অবশেষে রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন সার্ভিলেন্স ও সরাসরি অভিযানের মুখে দস্যুরা অপহৃতদের রেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যৌথ বাহিনী অক্ষত অবস্থায় জনি, সোহেল ও শ্রীপতি বাছাড়কে উদ্ধার করে। আটককৃত দস্যুরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির কথা স্বীকার করেছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত পর্যটকদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।