
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাগুলোতে সাপেকাটা রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া এবং অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করাই জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথ। সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের জন্য খুলনা বিভাগের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থিত ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডিপো থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অ্যান্টিভেনম সংগ্রহের সুবিধা রাখা হয়েছে, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
কুষ্টিয়া ও এর আশপাশের জেলাগুলোর জন্য দাদাপুর সড়কের আলফার মোড়ে অবস্থিত ইনসেপ্টা কুষ্টিয়া ডিপোটি নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এই কেন্দ্রটি থেকে মূলত কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ এবং রাজবাড়ীর পাংশা ও কালুখালী উপজেলার বাসিন্দারা সরাসরি সেবা পাবেন। জরুরি প্রয়োজনে যে কেউ ডিপো ম্যানেজার মো. শাহজাহানের ০১৭১৩-৩৬৪৬৮৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। একইভাবে মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার একাংশসহ ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য মাগুরার কেশব মোড়ে অবস্থিত ডিপোটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। সেখানে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য ০১৭১৬-৬৪৯৫৯৪, ০১৭১৪-১৬৫৭০৯ এবং ০১৭২৫-০৭৯৭৭০ নম্বরগুলো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
যশোর ও নড়াইল জেলাসহ সাতক্ষীরার অধিকাংশ অঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষায় যশোর শহরের নতুন খয়েরতলাস্থ পালবাড়ির ডিপোটি বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই এলাকার সেবাপ্রত্যাশীরা যেকোনো সময় সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আকতার আলীর সাথে ০১৭১৩-৩৮০০৭৪ নম্বরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি খুলনা মহানগরী, বাগেরহাট জেলা এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের সেন্ট্রাল ব্লকে অবস্থিত খুলনা ডিপোটি সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছে। এখানকার জরুরি প্রয়োজনে ০১৯১৬-১০৯০৮৩ এবং ০১৭১৪-১৬৫৭০৮ নম্বর দুটিতে যোগাযোগ করা যাবে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সাপে কাটার পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে আতঙ্কিত না করে শান্ত রাখতে হবে এবং আক্রান্ত অঙ্গটি নড়াচড়া না করিয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা এসব ডিপোর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। জনস্বার্থে এই তথ্যগুলো স্থানীয় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।