
খুলনার প্রমত্তা রূপসা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্র রাফির সন্ধানে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চললেও এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস মেলেনি। গত শুক্রবার বিকেলে নগরীর লবণচরা সংলগ্ন ১৩ গোলার ঘাট এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হয় ১০ বছর বয়সী এই শিশু। নিখোঁজ রাফি খুলনা জিলা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র এবং নগরীর রূপসা স্ট্যান্ডরোড এলাকার ডা. আলতাফ আলী লেনের ভাড়াটিয়া মো. রফিক শেখের পুত্র। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও প্রিয় সন্তানের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম শোক ও হাহাকার বিরাজ করছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল রাফি। তবে নামাজ শেষে সে তার বন্ধুদের সঙ্গে লবণচরা রোড সংলগ্ন রূপসা নদীর পাড়ে ১৩ গোলার পেছনে রাখা কাঠ বোঝাই একটি নৌকায় ওঠে। সেখানে খেলাধুলা করার এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পা পিছলে গভীর নদীতে পড়ে যায় এবং স্রোতের টানে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টি দেখার পরপরই উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেননি। পরবর্তীতে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক উদ্ধারকারী দল।
উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে রূপসা নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান যে, ঘটনার পর থেকেই তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার বিকেলের পর থেকে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পৃথকভাবে নদীতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। যদিও শনিবার বিকেল পর্যন্ত শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্ধার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রাখা হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে মেধাবী ছাত্র রাফির এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকা। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা এখনো নদীর তীরে প্রহর গুনছেন অলৌকিক কোনো সংবাদের আশায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি নদীর তীরে শিশুদের বিচরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রূপসা নৌ-পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, শিশুটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান ও নজরদারি চলমান থাকবে।