
রাজধানীর রামপুরায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় নিজ বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার লিলি নামের দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে বনশ্রীর এল ব্লকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নিহত লিলি স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত দেহ ঘরের ভেতর পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে রামপুরা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রাথমিক আলামত পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে তাদের পারিবারিক রেস্তোরাঁর একজন কর্মচারীর দিকে। স্বজনদের দাবি, মিলন নামের ওই কর্মচারী এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই মিলন গা-ঢাকা দিয়েছে এবং তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মচারীর এই আকস্মিক অন্তর্ধান পরিবারের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা সম্ভব হবে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।