
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে শীতের বিকেলের নরম আলোয় যখন জেলেরা কূলে ফিরছিলেন, তখন তাদের চোখে-মুখে ছিল অন্যরকম এক প্রাপ্তির আনন্দ। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাগরের নোনা জল যেন উজাড় করে দিয়েছে তার ঐশ্বর্য। শনিবার সকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া ঘাট থেকে ২৫ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে যে নৌকাটি সাগরে ভাসিয়েছিলেন মৌলভী হাফেজ আহমদ, বিকেলের দিকে সেটি ফিরে আসে এক বিরল ইতিহাস গড়ে। সাগরে পাতা একটি মাত্র টানা জালেই উঠে আসে রূপালি রঙের ছুরি মাছের বিশাল এক ঝাক। তীরে জাল তোলার পর দেখা যায়, প্রায় ১০৯ মণ ওজনের মাছ আটকা পড়েছে সেখানে। এই বিপুল পরিমাণ মাছের দৃশ্য দেখতে মুহূর্তেই সাগরপাড়ে ভিড় জমান স্থানীয় উৎসুক জনতা।
টেকনাফের এই উপকূলে শীতকালীন মৌসুমে মাছ ধরা পড়লেও এক জালে এত বিশাল পরিমাণ মাছ পাওয়ার ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। মাছের আধিক্য দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝেও বিপুল উৎসাহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সংগৃহীত মাছগুলো প্রতি মণ সাড়ে ৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী এখলাস মিয়া সম্পূর্ণ মাছগুলো মোট ৮ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই বিশাল পরিমাণ ছুরি মাছগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে শুঁটকিতে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াজাত করার পর এই শুঁটকিগুলো চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের মৎস্য শিল্পে বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে তারা আশাবাদী।
মাছ বিক্রির এই অভাবনীয় সাফল্য জালের মালিক হাফেজ আহমদের কাছে একটি অলৌকিক সহায়তার মতো প্রতীয়মান হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের বাইরেও তিনি দুটি মাদরাসা পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানান যে, সম্প্রতি মাদরাসার একটি ধর্মীয় প্রয়োজনে গরু কেনার জন্য তিনি তীব্র অর্থ সংকটে ভুগছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সাগরের এই দান তার সমস্ত দুশ্চিন্তা মুছে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এমন বড় অংকের মাছ জালে ওঠায় নৌকার ২৫ জন মাঝিমাল্লার ঘরেও এখন খুশির জোয়ার বইছে। শীত মৌসুমের শুরুতেই এমন প্রাপ্তি টেকনাফের উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।