
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অপতৎপরতা শুরু করেছে। বর্তমানে তার নামে অর্ধশতাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ছদ্মনামীয় আইডি থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক স্পর্শকাতর মন্তব্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উসকানিমূলক রিলস ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে জাইমা রহমানের ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যা সাধারণ নেটিজেনদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি হওয়ায় কৌতূহলী মানুষ এসব ভুয়া পাতাকে আসল মনে করে লাইক ও শেয়ার করছেন, আর এই বিপুল জনসম্পৃক্ততাকে পুঁজি করে চক্রটি অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান কিংবা জাইমা রহমান সমর্থক গোষ্ঠীর নামে খোলা এসব আইডিতে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক আপডেট দেওয়া হলেও বাস্তবে এগুলোর সঙ্গে জাইমা রহমানের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। সাধারণ মানুষ সরল বিশ্বাসে এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টে সক্রিয় থাকলেও এর নেপথ্যে কাজ করছে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচয় ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি হওয়ার সুবাদে তার প্রতি মানুষের যে আগ্রহ রয়েছে, সেটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে সাইবার অপরাধীরা।
এদিকে জাইমা রহমানের নাম ব্যবহার করে এমন অপপ্রচারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জাইমা রহমানের একটি মাত্র ফেসবুক আইডি রয়েছে এবং এর বাইরে অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কোনো সক্রিয়তা নেই। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইতোপূর্বে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন যে, এটি জিয়া পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করা হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার মেলেনি। দলটির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন যে, একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলেও দ্রুততম সময়ে নতুন আরেকটি অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা অভিমত দিয়েছেন যে, মেটা কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে এবং আইডিগুলো দ্রুত ভেরিফায়েড করার মাধ্যমে এই সংকট দূর করা সম্ভব। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের গুজব ছড়ানোর প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ভেরিফায়েড পেজ থেকে নিয়মিত সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার করা এখন সময়ের দাবি।