
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডারত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রেজওয়ানুল হক নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি হলের সামনের একটি দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে চা পানের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নগরীর বৈকালী এলাকার আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোররাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তার মৃত্যু ঘটেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত রেজওয়ানুল হক (২৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই) বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্থায়ী নিবাস দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার পঁচিশ মাইল বাজার এলাকায়। শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট ডা. এবিএম মামুন জামান জানান, সোমবার রাতে চা পানের সময় ওই শিক্ষার্থী স্ট্রোক করেছেন এমন সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত হাসপাতালে ছোটে। কিন্তু চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই তরুণ। রেজওয়ানুলের এমন অকাল মৃত্যুতে ক্যাম্পাসজুড়ে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রিয় সহপাঠীকে হারিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে শোকের স্তব্ধতা বিরাজ করছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গত মঙ্গলবার কুয়েটের সকল একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বাদ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানগণ, হল প্রভোস্ট, রেজিস্ট্রার এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শোকার্ত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে রেজওয়ানুলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর যথাযথ প্রক্রিয়ায় মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে পাঠানো হয়।
রেজওয়ানুলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালী বলেন, একজন প্রাণোচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীর এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে কুয়েট পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। শোকবার্তায় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও এই বিয়োগান্তক ঘটনায় সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর বিদায় ক্যাম্পাসে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যার রেশ প্রতিটি বিভাগ ও আবাসিক হলে অনুভূত হচ্ছে।