
মাতৃত্ব প্রতিটি নারীর জীবনে এক অনন্য অনুভূতি হলেও কারও কারও জন্য এই পথটি হয় অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি ঝোউ নামক এক নারী এমনই এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করেছেন, যা চিকিৎসকদের কাছেও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গর্ভকালীন সময়ে তাকে প্রতিনিয়ত জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে হয়েছে। তার এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে ছিলেন একদল নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক, যারা তাকে সারাক্ষণ ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন। ঝোউ নিজেই সেই অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, চিকিৎসকেরা তাকে এতটাই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন এবং নিয়মিত বার্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতেন যে, তার নিজেকে একটি সুরক্ষিত পান্ডার মতো মনে হতো। চিকিৎসকদের এই নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা তাকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছে।
তবে এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। ঝোউকে মোকাবিলা করতে হয়েছে একের পর এক শারীরিক জটিলতা। গর্ভকালীন অবস্থায় তার রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর পাশাপাশি তার কিডনিতেও সমস্যা দেখা দেয় এবং পা মারাত্মকভাবে ফুলে যাওয়াসহ আরও নানাবিধ শারীরিক যন্ত্রণায় তিনি দীর্ঘ সময় ভুগেছেন। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল তার জন্য এক একটি নতুন পরীক্ষা। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকেরা শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কোনো ঝুঁকি না নিয়ে গর্ভধারণের প্রায় ৩৩ সপ্তাহ পর জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
গত ৯ জানুয়ারি চিকিৎসকদের সেই চূড়ান্ত প্রচেষ্টায় সফলতার মুখ দেখেন ঝোউ। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন, যার ওজন ছিল ২ দশমিক ২ কেজি। এই সফল অস্ত্রোপচারটি শুধু একটি শিশুর জন্মই ছিল না, বরং এটি ছিল ঝোউয়ের প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক সম্মিলিত বিজয়। তার চিকিৎসক গুও এই কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে ঝোউকে একজন অত্যন্ত সাহসী মা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গুও মনে করেন, যে ধরনের ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ ও শারীরিক প্রতিকূলতা ঝোউ জয় করেছেন, তা সত্যিই বিরল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আনার এই অদম্য স্পৃহা সমাজের অন্যান্য নারীদের জন্যও এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।