
জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে সবেমাত্র সাফল্যের আলো দেখতে শুরু করেছিলেন তিনি। ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের কঠিন ধাপ পেরিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ‘পথের বাজার গার্লস কলেজে’ উৎপাদন ব্যবস্থাপনার প্রভাষক হিসেবে। চোখে ছিল আগামীর উজ্জ্বল স্বপ্ন আর দেশ গড়ার প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে অতর্কিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক মরণব্যাধি। বলছিলাম খুলনা আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের মার্কেটিং বিভাগের ১৩-১৪ সেশনের মেধাবী শিক্ষার্থী পারভেজ আক্তার পাপ্পুর (এসকেএম পারভেজ) কথা। যখন তার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যস্ত থাকার কথা, তখন তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে লড়ছেন জীবনের অন্তিম লড়াইয়ে।
সম্প্রতি টিউমারজনিত সমস্যার কারণে রাজধানীর অলোক হাসপাতালে পারভেজের একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে অস্ত্রোপচার পরবর্তী বায়োপসি রিপোর্টে উঠে আসে এক ভয়াবহ দুঃসংবাদ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে ক্যান্সারের কোষ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তার জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নতমানের কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটানো তার পরিবারের পক্ষে এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন, যা একজন সদ্য ক্যারিয়ার শুরু করতে যাওয়া লড়াকু যুবকের জন্য এক বিশাল বাধা।
পারভেজের এই কঠিন সময়ে তার সহপাঠী, কমার্স কলেজের ছোট ভাইবোন এবং মার্কেটিং পরিবারের সদস্যরা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, পারভেজ কেবল একজন মেধাবী শিক্ষার্থীই ছিলেন না, বরং একজন বিনয়ী ও স্বপ্নবাজ মানুষ হিসেবে ক্যাম্পাসে সবার কাছে সমাদৃত ছিলেন। এই বিশাল আর্থিক সংকটের কারণে তার চিকিৎসা যেন থমকে না যায়, সেজন্য কমার্স কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিত্তবান ও মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সন্তান পারভেজকে আবার সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারা সবার দোয়া ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করছেন।
বর্তমানে পারভেজের চিকিৎসার সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা মানবিক এই আহ্বানে সাড়া দিতে চান, তারা চাইলে সোনালী ব্যাংকের দিঘলিয়া শাখা, খুলনার অনুকূলে ২৭১০২০১০২৮৮৮৪ (নাম: PERVEJ AKTER PAPPU) নম্বর একাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম বিকাশ বা নগদে (পার্সোনাল: ০১৯৪৯৬৪৬২৮৫) অর্থ পাঠিয়ে এই মেধাবী শিক্ষকের জীবন প্রদীপ নেভানোর হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন। একটি সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় সবার সম্মিলিত চেষ্টাই পারে পারভেজকে আবারও তার প্রিয় ক্লাসরুমে ফিরিয়ে দিতে। আপনার সামান্য সহানুভূতিই হতে পারে একজন শিক্ষকের বেঁচে থাকার নতুন অবলম্বন।