
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে খাল-বিল পুনঃখননসহ প্রয়োজনীয় সব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা উলাসী খালসহ যশোর অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে সব প্রকল্প নেওয়া হবে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য।”
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিমসহ অন্যান্য ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি দেওয়া হবে। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশ গড়া হবে।”
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “একটি দল ৫ আগস্টের পর মা-বোনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের ঘরে বন্দি করতে চাচ্ছে। তারা মানুষের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। অসৎ প্রস্তাব দিয়ে সৎ শাসন কায়েম করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “একটি দলের প্রধান বিদেশি গণমাধ্যমে নারীদের বিষয়ে বক্তব্য দিলেও এর আগের রাতে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। যারা নারীদের সম্মান দিতে জানে না, তারা ক্ষমতায় গিয়ে ভালো কিছু দিতে পারবে না।”
অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মিথ্যা গল্প ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও করেন তিনি।
নারীশিক্ষার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।”
নির্বাচন নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আগের সরকারের মতো নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচন করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোট গণনার নামে কোনো অনিয়ম হলে তা প্রতিহত করতে হবে।”
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ অঞ্চলের বন্ধ চিনি শিল্পগুলো পুনরায় চালু করা হবে।”
জনসভায় বক্তৃতার এক পর্যায়ে যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার ২২টি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে দলের প্রধানের আগমনকে ঘিরে সমাবেশস্থল মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
ছবির সূত্র: গণমাধ্যম।