
কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ আলী নামের এক হাজতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার শেষ রাতে কারাগারের শৌচাগার থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও, কারাগারের মতো সুরক্ষিত স্থানে এমন মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহত বিদ্যুৎ আলী কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকাররমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা চাঁদ্দু আলীর ছেলে। মাদক সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত দুই মাস ধরে তিনি এই কারাগারে বন্দি জীবন অতিবাহিত করছিলেন।
কারা সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, শনিবার ভোররাতের দিকে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ আলীকে কক্ষে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে শৌচাগারের জানালার গ্রিলের সাথে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার শরিফুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে বন্দি অবস্থায় একজন হাজতি কেন এমন চরম পথ বেছে নিলেন কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, ময়নাতদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। নিয়ম অনুযায়ী সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারাগারের ভেতরে নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। জেল প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে বলে আশ্বাস দিয়েছে।