
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার প্রশাসনিক ও নির্বাচনী প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। গণতন্ত্রের এই মহোৎসবকে ঘিরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্বাচনের মূল অনুষঙ্গ ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিতরণের মাধ্যমে আজ থেকে শুরু হয়েছে মাঠ পর্যায়ের চূড়ান্ত কর্মতৎপরতা। সোমবার সকাল ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য অথচ কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে মালামাল পাঠানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সর্বোচ্চ সতর্কতা। নির্বাচনী সরঞ্জামবাহী পিকআপ ভ্যানগুলো যখন পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ প্রহরার মাধ্যমে জেলা সদর ত্যাগ করছিল, তখন সেখানে এক কঠোর নিরাপত্তা বলয় দৃশ্যমান হয়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্ধারিত ব্যালট পেপার, সিল, কালি ও অন্যান্য দাপ্তরিক সামগ্রী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর এবং মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি বা বিচ্যুতি এড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি যানবাহনের সাথে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্ধারিত স্ট্রং রুমে এসব মালামাল পৌঁছানোর পর সেখানেও চব্বিশ ঘণ্টা সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্যই হলো জনমনে আশ্বস্ততা তৈরি করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা। প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও সরাসরি তদারকির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে উপস্থিত একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে তারা আগেভাগেই বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যেই প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত প্রিজাইডিং অফিসাররা নিজ নিজ কেন্দ্রের ব্যালট পেপারসহ যাবতীয় সরঞ্জাম বুঝে নেবেন। এরপরই মূলত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। খুলনার সচেতন নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ ভোটাররা প্রশাসনের এমন সুশৃঙ্খল ও দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথকে আরও প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।