
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বহুল আলোচিত গণভোট। নির্বাচনকে ঘিরে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আজ বুধবার রাতের প্রস্তুতি শেষে আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। ইতোমধ্যে জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চারস্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছেন। গত মঙ্গলবার সকালেই প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে, ফলে এখন কেবল ভোট দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ভোটাররা।
খুলনার নির্বাচনী মাঠ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার মোট ছয়টি আসনে ৩৮ জন প্রার্থী একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন। এর মধ্যে খুলনা-১ আসনে সর্বোচ্চ ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে বিএনপি’র আমীর এজাজ খান, জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দীসহ অন্যান্য জোটের প্রার্থীরা রয়েছেন। খুলনা-২ আসনে লড়াই হচ্ছে ত্রিমুখী, যেখানে নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ শক্তিশালী তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খুলনা-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থীর ভিড়ে তীব্র প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে রকিবুল ইসলাম ও মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের মতো প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। খুলনা-৪, ৫ ও ৬ আসনেও বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলনের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। প্রতিটি আসনেই প্রার্থীদের প্রতীকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনার ৬টি আসনে মোট ২১ লাখ ১ হাজার ৩৩৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় কিছুটা বেশি। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের জন্য ৮৪০টি ভোটকেন্দ্র এবং ৪ হাজার ২৫৭টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা-৬ আসনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩১ জন ভোটার এবং খুলনা-৫ আসনে ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন ভোটার রয়েছেন। এছাড়া খুলনা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটার ভোটদানের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি কেন্দ্রেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানিয়েছেন, এবার প্রযুক্তির সহায়তায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পোশাকে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত থাকবে। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা; খুলনা-৩ আসনের ফলাফল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে এবং বাকি পাঁচটি আসনের ফলাফল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে ঘোষণা করা হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে অন্যান্য সাধারণ যানবাহন চলাচলও বন্ধ থাকবে। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সল কাদের আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হবে।