
পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
ইফতার ও সাহরির জন্য প্রয়োজনীয় লেবু, শসা, কাঁচা মরিচ, সবজি, ডিম ও মুরগির দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে।
সরেজমিনে দিঘলিয়া উপজেলার পথের বাজার ও স্থানীয় হাট ঘুরে দেখা গেছে, রমজান শুরুর আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে বাজারে শসা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা এবং টমেটো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ১২০ টাকা। কলা (হালি) ৩২ টাকা, সিম ২০ টাকা এবং লাল শাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিম (হালি) ৩৬ টাকা এবং সাদা ডিম (হালি) ৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, লেয়ার ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগি ২৮০ টাকা এবং প্যারিস জাতের মুরগি ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, এসব দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “রমজান এলেই বাজারে আগুন লাগে। আগে যেখানে ৫০০ টাকায় বাজার হতো, এখন সেখানে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হচ্ছে। সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
আরেক ক্রেতা রাশেদা বেগম বলেন, “ইফতারের জন্য শসা, লেবু, কাঁচা মরিচ না কিনে উপায় নেই। কিন্তু প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটা বড় সমস্যা।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হচ্ছে। এক সবজি বিক্রেতা জানান, “আড়ত থেকেই সবজির দাম বেশি নিচ্ছে। পরিবহন খরচ ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রমজানকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে। পর্যাপ্ত বাজার মনিটরিং না থাকায় তারা সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ অবস্থায় সাধারণ জনগণের দাবি, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরুরি। সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রমজান পালন করতে পারবে।